পাহারায় থাকা পাঁচ কুকুর অচেতন করে গরু চুরি

বাংলা টিভি ডেস্ক: পিরোজপুরের নেছারাবাদে কৃষক হরিদাস হালদারের গবাদিপশু পাহারা দেওয়া পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে একটি গর্ভবতী গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিয়মিত খাবার দিয়ে যেসব কুকুরকে আপন করে নিয়েছিলেন হরিদাস, তারাই রাতে গোয়ালঘর পাহারা দিত। গরু হারানোর পাশাপাশি এখন অসুস্থ কুকুরগুলোর চিকিৎসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির বিষয়টি জানতে পারেন হরিদাস। পরিবারের ধারণা, শুক্রবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চুরির ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরিদাসের গোয়ালঘরের আশপাশে নিয়মিত রাতে অবস্থান করত পাঁচটি স্থানীয় কুকুর। তিনি প্রতিদিন কুকুরগুলোকে খাবার দিতেন। একসময় তারা বাড়িটির সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ে যে রাতে গবাদিপশুর পাহারার দায়িত্বও পালন করত।
তবে শুক্রবার রাতে চোরেরা কুকুরগুলোকে কোনো ধরনের অচেতনকারী পদার্থ খাইয়ে বা প্রয়োগ করে অচেতন করে ফেলে বলে পরিবারের ধারণা। এরপর গোয়ালঘর থেকে গর্ভবতী গরুটি নিয়ে যায় তারা।
ভোর ৪টার দিকে গোয়ালঘরের পাশে গিয়ে হরিদাস দেখেন, গরুটি সেখানে নেই। পরে আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা পাঁচটি কুকুরকে দেখতে পান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চুরি যাওয়া গরুটি গর্ভবতী ছিল এবং প্রায় এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তার বাছুর প্রসব করার কথা ছিল। ফলে গরুর পাশাপাশি অনাগত বাছুরটিকেও হারানোর শঙ্কায় কষ্টে রয়েছে পরিবারটি।
হরিদাস হালদার বলেন, ‘কুকুরগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দিতাম। রাতে ওরাই আমার গরুগুলো পাহারা দিত। এখন গরুটাও নেই, আবার কুকুরগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। তারা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।’
তিনি জানান, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলামিন বলেন, হরিদাস দীর্ঘদিন ধরে গরুটি পালন করছিলেন। গরুটি বর্তমানে গর্ভবতী ছিল। তার ধারণা, কুকুরগুলোর খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে। ঘটনার পরদিনও কুকুরগুলোকে অস্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও গরুটির সন্ধান পাননি।
পাটিকেলবাড়ী করফা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ জানান, গরু চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। চোরদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়া সড়কগুলোর বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে গরু চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।



