বাংলাদেশ

এসএসসির ফল প্রকাশের দুদিন আগে প্রাণ হারায় শিহাব, পেল জিপিএ-৫

বাংলা টিভি ডেস্ক: এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসির ফল প্রকাশ হলে জানা যায়, সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সন্তানের এমন সাফল্যের দিনে যেখানে পরিবারে আনন্দের কথা, সেখানে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে স্তব্ধ স্বজনরা।

নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা শিহাব চলতি বছর বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাবের দুটি ছোট বোন রয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে।

শনিবার দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার জন্য টানানো রঙিন বাতির বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে শিহাবের মরদেহ দাফন করা হয়।

শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, চাকরি ও ব্যবসার কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।

সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিহাবের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর আসে। ফলাফল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আনন্দ করার কথা থাকলেও প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে।

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যেই এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে এবং শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকে রয়েছে।

তিনি জানান, শিহাবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে থেকে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button