৭ শিক্ষকের স্কুলে ৮ শিক্ষার্থী, এসএসসিতে সবাই ফেল

বাংলা টিভি ডেস্ক: পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র আটজন। তাদের পড়ানোর জন্য কর্মরত রয়েছেন সাতজন শিক্ষক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন অনুপাত থাকার পরও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন ফল হয়েছে।
বিদ্যালয়ের এক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতেন না। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের কোনো শিক্ষকও ছিলেন না। ফলে পর্যাপ্ত ক্লাস হয়নি। অনেক সময় শিক্ষকরা আগেই ছুটি দিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদেরও বাড়ি চলে যেতে হতো।
অভিভাবক বাসুদেব সাহা বলেন, সন্তানদের ভালো ফলাফলের জন্য অভিভাবকদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অনেক দিন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলত না। কখনো সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গেলেও এক ঘণ্টা পরই তাদের বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ছিল। এখন আগের তুলনায় চারজন শিক্ষক বেশি থাকার পরও সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এমন পরিস্থিতির দায়ভার কে নেবে, সেটিই এখন প্রশ্ন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমেও শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয় বেলা ২টার পরও চলার কথা থাকলেও অনেক সময় তার আগেই ছুটি হয়ে যায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের কোনো কার্যকর কমিটিও নেই। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বা শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলাফলের বিষয়ে জবাবদিহি করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
এ বিষয়ে জেকে পঞ্চগ্রাম নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হলে ফলাফল অবশ্যই ভালো করা সম্ভব ছিল। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস না করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তাদের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



