বাংলাদেশ

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: ফলাফল তোমার পরিচয় নয়

বাংলা টিভি ডেস্ক: এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার ফল কোনো শিক্ষার্থীর প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে না; এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষার খাতায় লেখা উত্তরের মূল্যায়ন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীর পরিচয় নয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় পরীক্ষার খাতায় কতটা লিখতে পেরেছে, ফলাফল মূলত তারই হিসাব। একজন শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কোনো নম্বর হয় না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি—সবকিছু মিলিয়ে তাদের মনে হতে পারে জীবন যেন থেমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়স্বজনের তুলনা কিংবা সহপাঠীদের আচরণ অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতেও হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি।

অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, ফল খারাপ হওয়া শিক্ষার্থীরা এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। তাই তাদের বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভৎসনার চাইতে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’

শিক্ষকদেরও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ড. মিলন। কেন তারা পিছিয়ে পড়েছে, কী কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি—সেসব কারণ চিহ্নিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদেরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ব্যর্থতার দায় কেবল শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের জীবনের গল্প এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ভবিষ্যতে সফলতার শিখরে পৌঁছানোর পর তারা আজকের এই দিনটির দিকে ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারবে, সেদিনের হতাশা অযথা ছিল।

তিনি বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি।’

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন আজ যারা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের সেই পথচলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button