বাংলাদেশ

সন্তানকে শরীরের সঙ্গে বেঁধে অটোরিকশার চালকের আসনে নারী, পাশে দাঁড়াল ঢাকা জেলা প্রশাসন

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন অসংখ্য অটোরিকশা ছুটে চলে। সেই ভিড়ের মাঝেই জীবিকার তাগিদে অটোরিকশার স্টিয়ারিং হাতে দেখা যায় আফরোজা নামের এক তরুণীকে। তবে অন্য চালকদের মতো শুধু গাড়ি চালানোই তার গল্প নয়; তার প্রতিটি দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মায়ের বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই।

আনুমানিক ২৬-২৭ বছর বয়সী আফরোজার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তার ১১ মাস বয়সী মেয়ে তাইয়েবা। মেয়েকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে চান না তিনি। তাই অটোরিকশা চালানোর সময় শিশুটিকে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। একদিকে রোজগারের জন্য গাড়ি চালানো, অন্যদিকে মেয়েকে আগলে রাখা—দুই দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করে চলেছেন এই মা।

আফরোজার মা মিরপুরের একটি বস্তিতে মাত্র ৫ ফুট বাই ৩ ফুটের ছোট্ট একটি ঘরে থাকেন। সেখানে মেয়েকে নিয়ে থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই আফরোজার। ফলে শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বস্তির পাশের একটি গাছতলায় রাত কাটাতে হয় তাকে।

রোদ-বৃষ্টি, ঝড়, ধুলাবালি আর আশপাশের যানবাহনের শব্দ—এসবই এখন আফরোজা ও তার শিশুর নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবুও অভাবের কাছে হার মানেননি তিনি। মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন।

জীবনের এই কঠিন সংগ্রামের মধ্যেও সন্তানের প্রতি আফরোজার মমতা ও দায়িত্ববোধ তাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাচ্ছে। নিজের কষ্টকে আড়াল করে মেয়ের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

আফরোজা ও তার মেয়ের এমন জীবনসংগ্রামের খবর জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম তাদের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসহায় ও সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আফরোজা ও তার মেয়ের জীবনসংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

একজন মায়ের জীবনের প্রতিদিনের এই লড়াই শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়—এটি সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button