গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

ওজনে বিক্রি হচ্ছে রান্না করা গরুর মাংস

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা থেকে: গরুর মাংস সাধারণত কেজি কিংবা নির্দিষ্ট পরিমাণে কিনতে হয়। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে গাইবান্ধায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন এক হোটেল উদ্যোক্তা। এখানে বড় হাঁড়িতে রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ওজন করে। ক্রেতার যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই কিনতে পারছেন।

‎চাইলে হোটেলে বসে খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করা মাংস কিনে বাড়িতেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের একবারপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ‘ভোজন বিলাশ’ নামের এই খাবারের দোকান। স্থানীয় উদ্যোক্তা আল আমিন বাবুর উদ্যোগে এখানে প্রতিদিন রান্না হচ্ছে বিপুল পরিমাণ গরুর মাংস।

‎হোটেলটিতে মাটির চুলায় কাঠ-খড়ির আগুনে বড় হাঁড়িতে রান্না করা হয় মাংস। রান্নার সময় হাঁড়ির মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা হয়, যাতে ভেতরের গরম ভাপ বের হতে না পারে। প্রায় ঘণ্টাখানেক রান্নার পর হাঁড়ি নামিয়ে মাংস পরিবেশন করা হয়। তবে এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- ক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস নিতে হয় না।

‎ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রে মেপে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মাংস দেওয়া হয়। কেউ ২০০ গ্রাম, কেউ আধা কেজি, আবার কেউ এক কেজি যার যতটুকু প্রয়োজন, তিনি ততটুকুই কিনতে পারছেন। ‎প্রতি কেজি রান্না করা গরুর মাংসের দাম এক হাজার টাকা। আর ভাতসহ সর্বনিম্ন ১২০ টাকায় গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

‎হোটেলটির স্বত্বাধিকারী আল আমিন বাবু বলেন, ধনী-গরিব সবাই যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী গরুর মাংস কিনে খেতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আগে অন্যের হোটেলে কাজ করতেন। সেখান থেকেই রান্নার কাজ শেখেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজে কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই ‘ভোজন বিলাশ’ শুরু করেন।

‎আল আমিন বাবুর দাবি, প্রতিদিন তাঁর হোটেলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি গরুর মাংস রান্না হয়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে হোটেলটি। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ এখানে খাবার খান বলেও জানান তিনি।

শুধু হোটেলে বসে খাওয়া নয়, চাইলে রান্না করা মাংস কিনে বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারেন ক্রেতারা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে খাওয়ার সুযোগও রয়েছে। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাংস নেওয়া হলে অবশিষ্ট মাংস ফেরত দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

ক্রেতারা বলছেন, খাবারের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস কেনার সুবিধা। এতে বাড়তি মাংস কেনার ঝামেলা নেই, আবার স্বল্প পরিমাণে কিনেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে মাটির চুলায় রান্না করা গরম গরম মাংস আর প্রয়োজনমতো ওজন করে কেনার সুবিধা সব মিলিয়ে ‘ভোজন বিলাশ’ এখন স্থানীয় ভোজনরসিকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

‎প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে রান্না করা গরুর মাংস ওজনে বিক্রির এই উদ্যোগ শুধু ক্রেতাদের আগ্রহই বাড়ায়নি, তৈরি করেছে খাবার পরিবেশনের নতুন অভিজ্ঞতাও। উদ্যোক্তার আশা, স্বাদ ও মান ধরে রেখে ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button