প্রাথমিক স্কুলে দুর্ধর্ষ চুরি, শিশুদের ‘সততা স্টোরের’ টাকাও লুট

বাংলা টিভি ডেস্ক: দিনের বেলায় শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকা বিদ্যালয়টি রাত নামলেই হয়ে পড়ে অনেকটাই অরক্ষিত। আর সেই সুযোগেই কালীগঞ্জের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে তালা ভেঙে চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। অফিস কক্ষ তছনছ করে তারা নিয়ে গেছে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বিদ্যালয়টিতে চুরির ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি বিদ্যালয়ে এসে প্রথম বিষয়টি দেখতে পান। কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশের পর অফিস কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে কাছে গিয়ে দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। একইভাবে বারান্দার পকেট গেটের তালাও ভাঙা ছিল।
ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিনকে ফোনে বিষয়টি জানান নূসরাত। পরে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষক দেখতে পান, অফিস কক্ষের আলমারি ও টেবিলের সব ড্রয়ার খোলা। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার ও সততা স্টোরের নগদ টাকা পাওয়া যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টরটিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। স্থানীয় সেবক পাল, সাইফুল ইসলাম ও অভিভাবক আয়েশার ভাষ্য, দেওতলা গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম। তারা ধারণা করছেন, মাদকাসক্ত কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
তবে শুধু দেওতলা বিদ্যালয় নয়, উপজেলার অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী আছেন। অর্থাৎ ৮২টি বিদ্যালয়ে রাতে পাহারার কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে গত মাসেই আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
জেসমিন আক্তার বলেন, কালীগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা অথবা শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব।
তিনি জানান, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



