‘সংসার ভাঙার আগে একবার নয়, শতবার ভাবা উচিত সংশোধনেই সমাধান’

বাংলা টিভি ডেস্ক: পরিবারকে মানবসভ্যতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে দাম্পত্য জীবনে সাময়িক মতবিরোধ বা মনোমালিন্যের কারণে তাড়াহুড়ো করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, পৃথিবীর শুরু থেকেই মানবসভ্যতা যে বন্ধনের ওপর টিকে আছে, সেটিই পরিবার। কিন্তু বর্তমানে নানা ছোটখাটো কারণেও প্রতিদিন অসংখ্য সংসার ভেঙে যাচ্ছে।
একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭টি দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটছে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ মিনিটে একটি করে তালাকের ঘটনা ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তালাক ইসলামে বৈধ হলেও এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, একটি পরিবার ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানরা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের মানসিক প্রভাব অনেক সময় সন্তানদের দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হয়।
তিনি বলেন, ইসলাম তালাককে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেয়নি, যার পর ফিরে আসার সুযোগ নেই। বরং ভুল বোঝাবুঝি দূর হলে স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের সুযোগ রাখার মতো করেই তালাকের বিধান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই রাগ, অভিমান কিংবা সাময়িক উত্তেজনার মধ্যে না ভেবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
তাই তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা এবং অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা মনোমালিন্য হওয়াকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নবীজি (সা.)-এর পারিবারিক জীবনের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, নবীজি (সা.)-এর সংসারেও সাময়িক মনোমালিন্য হয়েছিল, তবে তা স্থায়ী রূপ নেয়নি। বরং ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
তরুণদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, জীবনের একটি সময়ে একা থাকাকে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও তারুণ্য চিরস্থায়ী নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন জীবনসঙ্গীর ভালোবাসা ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
দাম্পত্য জীবনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংশোধন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।



