‘আমার মতো সাধারণ একটা ছেলেকে তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে, অসাধারণ করে তুলেছো এটা গর্বের’

বাংলা টিভি ডেস্ক: আমার মতো সাধারণ একটা ছেলেকে তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে, অসাধারণ করে তুলেছো এটা গর্বের। প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব চিঠি দিবস। হারিয়ে যেতে বসা কাগজ-কলমের চিঠি লেখার অভ্যাসকে নতুন করে মনে করিয়ে দিতেই এই দিবসের আয়োজন। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলীয় লেখক, আলোকচিত্রী ও শিল্পী রিচার্ড সিম্পকিন সিডনির ওয়েভারলি কলেজে দিবসটির সূচনা করেন।
চিঠি দিবসকে ঘিরেই যেন হঠাৎ সামনে এলো এক অজানা প্রেমের গল্প। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রীনিবাসের সামনে কুড়িয়ে পাওয়া গেছে নীল কাগজে কালো কালিতে লেখা একটি চিঠি। চিঠিটি কোনো সাধারণ চিঠি নয়—ভালোবাসা, অভিমান, অতীতের কষ্ট আর সম্পর্কটিকে ধরে রাখার আকুতি মিশে আছে এর প্রতিটি লাইনে।
চিঠির শুরুতেই লেখা—
“ওপেন, আমরা তো একই। তোমার সবগুলো চিঠির উত্তর একসাথে দিয়ে দিচ্ছি।”
শুরুতেই বোঝা যায়, এটি একটি চিঠির উত্তর নয়। প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে পাওয়া অনেক চিঠির জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর যেন একসঙ্গে দিয়েছেন লেখক।
এরপরই আসে ভালোবাসার সরাসরি স্বীকারোক্তি—
“I love you too jan.”
কিন্তু ভালোবাসার সেই কথার পরই ধীরে ধীরে সামনে আসে অভিমান।
চিঠিতে লেখক উল্লেখ করেছেন, প্রিয় মানুষের প্রায় প্রতিটি চিঠিতেই একটি বিষয় ঘুরেফিরে এসেছে—“তুমি আমার প্রথম না।” বিষয়টি দুজনেরই জানা ছিল। তারপরও একই প্রসঙ্গ বারবার ফিরে আসায় কষ্ট পেয়েছেন তিনি।
পুরোনো বিষয়গুলো পেছনে ফেলে আবার আগের মতো সম্পর্কে ফিরতে চেয়েছিলেন লেখক। কিন্তু অতীত যেন বারবার বর্তমানের দরজায় কড়া নেড়েছে। তাই চিঠিতে ছিল তার একরকম অনুরোধ—অতীত নিয়ে কথা উঠলেও যেন সেটিকে নতুন করে টেনে না আনা হয়।
চিঠির পরের অংশে লেখক নিজের পরিচয়টাও দিয়েছেন এক ভিন্নভাবে। লিখেছেন—
“আমি নিঃসন্দেহে বিশেষ কেউ নই। নিতান্তই একটা সাধারণ ছেলে। কিন্তু এই সাধারণ একটা ছেলেকে তুমি তোমার ভালোবাসার মাধ্যমে যতটা অসাধারণ করে তুলেছো, সেটা গর্বের—আমাকে না, তোমাকে নিয়ে।”
এই কথার মধ্যেই যেন ভালোবাসার একটি গভীর সত্য লুকিয়ে আছে। কখনো কখনো একজন মানুষের নিজের প্রতি বিশ্বাসও তৈরি হয় অন্য একজনের ভালোবাসা থেকে। ভালোবাসার মানুষটি তাকে কীভাবে দেখছে, সেটাই হয়ে ওঠে নিজের মূল্যবোধের একটি অংশ।
তবে চিঠিটিতে শুধু ভালোবাসা নয়, জমে থাকা কষ্টও ছিল। লেখক বলেছেন, প্রিয় মানুষের কারণে নিজের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তার হিসাব করতে চান না। কারণ সেই হিসাব শুরু করলে হয়তো ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেবে ঘৃণা আর অভিমান।
শেষের দিকে এসে ভালোবাসার প্রকাশ আরও গভীর হয়েছে। তিনি লিখেছেন—
“যেই ভালোবাসা তোমার কাছে আমি পাইছি, এটা আর কেউ কখনো আমাকে দিতে পারেনি আর আমি আশাও করি না। আমি তোমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।”
তারপর আবারও—“I love you.”
এখানেই চিঠির শেষ। কিন্তু শেষ হয় না গল্প।
এই সম্পর্কের পরিণতি কী হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তারা শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন কি না, সেই উত্তরও অজানা। চিঠিটি যার উদ্দেশে লেখা, তিনি আদৌ এটি পেয়েছিলেন কি না—সেটিও জানা নেই।
হয়তো তিনি পেয়েছিলেন। হয়তো পাননি।
হয়তো উত্তরও দিয়েছিলেন। আবার এমনও হতে পারে, এত অনুভূতির জবাব দেওয়ার মতো ভাষা তার কাছে ছিল না।
তবে নীল কাগজে লেখা সেই কথাগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে—চিঠিটি কাগজের হলেও অনুভূতিগুলো ছিল একেবারেই জীবন্ত। সেখানে ছিল ভালোবাসা, অভিমান, অতীতের ক্ষত, হারানোর ভয় এবং প্রিয় মানুষটিকে নিজের জীবনে ধরে রাখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
বিশ্ব চিঠি দিবসে কুড়িয়ে পাওয়া সেই চিঠি তাই শুধু একটি প্রেমপত্র নয়; এটি হয়তো দুজন মানুষের এমন এক সম্পর্কের নীরব সাক্ষী, যার পুরো গল্পটি হয়তো কখনোই জানা যাবে না।
আর শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—
যার উদ্দেশে এত ভালোবাসা আর অভিমান নিয়ে চিঠিটি লেখা হয়েছিল, সেই মেয়েটি কি শেষ পর্যন্ত চিঠিটি পেয়েছিল?




