হাইকমিশনের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হলো মালদ্বীপ প্রবাসী জলিলের মরদেহ

সোহেল রানা, মালদ্বীপ প্রতিনিধি: মালদ্বীপে মৃত্যুবরণকারী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুল জলিলের (৫৫) মরদেহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তায় তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়।
আব্দুল জলিল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে আসেন তিনি। প্রায় সাড়ে সাত মাস পর ২৯ আগস্ট রাজধানী মালে শহরে ঘুমের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের জানান স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর পর আব্দুল জলিলের পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মরদেহ দেশে পাঠাতে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেয়।
হাইকমিশনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়। পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তায় মঙ্গলবার আব্দুল জলিলের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দেশে পৌঁছানোর পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও মানবিক সংকটে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান হাইকমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে হাইকমিশন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানী মালের একটি ভাড়া বাসায় ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান ৫৫ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুল জলিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন জলিলের মৃত্যুতে স্বজনরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দেশে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় আর্থিক অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে মরদেহ দেশে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় আব্দুল জলিলের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতা কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা।



