বাংলাদেশ

মোবাইলের আসক্তি নেশাজাতীয় দ্রব্যের মতোই ক্ষতিকর: আইজিপি

বাংলা টিভি ডেস্ক: সাময়িক কৌতূহল কিংবা কারও প্ররোচনায় শিক্ষার্থীরা যেন মাদকের ভয়াল থাবায় জড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য তাদের সবসময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, মাদক একটি মরণফাঁদ। একইভাবে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তিও ক্ষতিকর।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে এ বৃত্তি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, মেধা মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়, তবে সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে মহান করে তোলে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি অর্জন করা জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং তারাই যেন প্রযুক্তিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে।

মাদকের বিষয়ে সতর্ক করে আইজিপি বলেন, কোনো সাময়িক কৌতূহল বা প্ররোচনার কারণে যেন শিক্ষার্থীরা মাদকে আসক্ত না হয়। পাশাপাশি মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আইজিপি বলেন, মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু পুরস্কার নয়, বরং তাদের পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে এই মেধাই কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে হবে। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্যও তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি খারাপ কাজ থেকে দূরে থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮০১ জন এবং এইচএসসিতে ২৭২ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এসএসসিতে ৮৪৫ জন এবং এইচএসসিতে ১৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির আওতায় এসেছে। দুই বছরে মোট ২ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে।

এর মধ্যে শনিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। বাকি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button