ছেলে হত্যাকারীদের বিচার চাইলেন মা, মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি!

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোনায় ছেলে ফয়সাল আহমেদকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার মা লিজা আক্তার। একই সঙ্গে মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষের হুমকির অভিযোগ করে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা শহরের মুক্তারপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন লিজা আক্তার। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের সামনে সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেকে হত্যার পরও আসামিরা থেমে নেই। মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিজা আক্তারের দাবি, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মো. মাসুদ মিয়া, রবিন মিয়া, নজরুল ইসলাম, লিপি আক্তার, উজ্জ্বল মিয়া, ইমন মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
নিহত ফয়সাল আহমেদ (১৯) নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাবনিকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনার আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই রাতে বাবনিকোনা সংসদ বাজার মসজিদের সামনের সড়কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সাউন্ডবক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ফয়সাল ও তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়।
ফয়সালের বাবা নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ওই ঘটনার একপর্যায়ে মাসুম মিয়া তার স্বজনদের নিয়ে ফয়সাল ও অন্যদের ওপর হামলা চালান। এতে ফয়সালসহ চারজন আহত হন। আহত অন্যরা হলেন ফয়সালের চাচাতো ভাই রবিন মিয়া, চাচা সাদেকুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফয়সাল ও সাদেকুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে ফয়সালের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় মো. মিলন মিয়া, মো. কামরুল ইসলাম, জুয়েল মিয়াসহ অন্যদের নাম রয়েছে। পরে পুলিশ মিলন মিয়া ও মো. শাজাহান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
নজরুল ইসলামের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অন্য আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
নিহত ফয়সালের চাচা সাদেকুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই হামলাতেই ফয়সালের মৃত্যু হয় এবং আহত হয়ে তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সাদেকুল।
অভিযুক্ত মাসুম মিয়া ও অন্য আসামিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সালের মৃত্যুর পর থেকেই অভিযুক্তদের কয়েকজন বাড়িতে নেই।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফয়সাল আহমেদ নামে এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



