মুক্তিপণ না পেয়ে তরুণকে হত্যা, ২৫ দিন পর কঙ্কাল উদ্ধার

বাংলা টিভি ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। এর আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটার জঙ্গল থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পোশাক দেখে রাশেদুলের বাবা মো. শাহজাহান সেটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম মিয়া নামে এক যুবক মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারী কণ্ঠে জানানো হয়, রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর জন্য দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা মুঠোবার্তাও পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় রাশেদুলের বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রোববার দুপুরে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিম উদ্দিন (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে একই গ্রামের রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল (২৭) নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জিকরুল ইসলাম জানান, জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাটিতে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, একটি খুলি ও পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। পোশাক দেখে রাশেদুলের বাবা তা তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রাশেদুলকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল ও দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফুলপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



