বাঁধনের ওপর হামলাকারী মনিরুলের বাড়ি তালাবদ্ধ, পরিবার পলাতক

মাদারীপুর প্রতিনিধি( ডিজিটাল): ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মাদারীপুরের মনিরুল হাওলাদারের বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায় মনিরুল হাওলাদারের গ্রামের বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, হামলার আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দেশের জন্য বিব্রতকর। তাই মনিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরুল হাওলাদার খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। ইতালিতে যেতে তার প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ওই অর্থের ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারেননি বলেও জানা গেছে।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, মনিরুল এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি এবং তার ওপর ঋণের চাপ রয়েছে। বিদেশে গিয়ে উপার্জনের পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘বিদেশে বসে দেশের মান-সম্মান নষ্ট করার মতো ঘটনায় আমরা তার সঙ্গে নেই। ঘটনার বিচার হওয়া উচিত। তার পরিবারের সদস্যরাও বর্তমানে বাড়িতে নেই।’
এদিকে ঘটনার পর মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাড়িঘরে যাতে কেউ হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিনি পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন।



