বাংলাদেশ

মায়ের দাবি দাফন, বাবার চাওয়া দাহ—পাঁচ দিন ধরে হিমঘরে মরদেহ

বাংলা টিভি ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে গুলিতে নিহত শুভ ওরফে বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তাঁর মা দাবি করছেন, শুভ মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাই তাঁকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা উচিত। তবে বাবা হরি চন্দ্র দাসের বক্তব্য, শুভ হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন, ফলে তাঁর শেষকৃত্য সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করেই সম্পন্ন করতে হবে।

পরিবারের দুই পক্ষের বিপরীত দাবির কারণে হত্যার পাঁচ দিন পরও শুভর মরদেহের দাফন বা দাহ কোনোটিই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। শুরুতে মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছিল। পরে সেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই শুভর মরদেহ দাফন করা হবে, নাকি হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাহ করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। এরপর শুভসহ তাঁর মা ও ভাই-বোন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হলফনামার মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর শুভ ‘বিল্লাল’ নাম নেন। পরে তিনি মুসলিম রীতিতে কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী জ্যুথিও মুসলিম এবং তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে।

শুভর ভাই ইব্রাহিম জানান, তাঁরা দুই ভাই একসঙ্গেই মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সুন্নতে খাৎনা করান। পরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন মাদরাসায় পড়াশোনাও করেন।

অন্যদিকে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তাঁর ছেলে জন্মসূত্রে হিন্দু। তাই তিনি ছেলের মরদেহ সনাতন ধর্মীয় নিয়ম মেনে দাহ করতে চান। পরিবারের দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানের কারণেই শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আদালতে নেওয়া হয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই অনুযায়ী মরদেহ দাফন বা দাহের ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪)।

পুলিশের ভাষ্য, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দেওয়ার কথা বলে শুভকে তাঁর এক সহযোগীর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল অবস্থান করছিল। শুভ সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে ঘিরে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button