মাননীয় বাদ, নিজ দফতর থেকেই নিয়ম বাস্তবায়ন শুরু প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পরদিনই তা নিজের দফতরে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন ফাইল, নথি ও দাফতরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর একদিন আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাফতরিক যোগাযোগ, সরকারি নথি এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয় থেকেই শুরু করেছেন। এখন তাঁর কাছে উপস্থাপিত সরকারি ফাইল ও অন্যান্য নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনিক সংস্কারের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দাফতরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নিজের জন্য একই নিয়ম অনুসরণের নজির তৈরি করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অনলাইন হাজিরা দেওয়ার পাশাপাশি অফিস শেষে বের হওয়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারপ্রধান নিজেই নিয়মিত দাফতরিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তি যখন সাধারণ দাফতরিক নিয়ম অনুসরণ করেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া দেশে ও বিদেশে প্রধানমন্ত্রী পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না বলেও জানানো হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মূলত এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিও বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে প্রচলিত নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করবেন।



