‘ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত বরাদ্দের আওতায় দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রকল্পের পাইলট পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবায়েত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ ও ৬৭ জন উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর জীবন ও চরিত্রের প্রতিটি অধ্যায় মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ও নৈতিক গুণাবলি অনুসরণ করে জীবন গড়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হজের অর্থ ফেরতের তথ্য
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও নির্দেশনায় বাংলাদেশে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চলতি বছর সেই ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি সংকটের মধ্যে পড়েছিলেন। ওই সময় তাঁর হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। পরে দুবাই বিমানবন্দরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলেও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



