বাংলাদেশ

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এই নোটিশ পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের ওই কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় তাকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এর ফলে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—এমন একটি ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

পোস্টে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে দুদক বিটের সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম জানান, তার বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে বলে পোস্টে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিল বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। আর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় ১১ মে ২০২৬—অর্থাৎ তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে।

এ অবস্থায় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আইনি নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button