৭২% কাজ শেষ, ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ

বাংলা টিভি ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এসব সমস্যা কমিয়ে যান চলাচল আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ ও সার্ভিস এরিয়ার নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে ছয়টি সার্ভিস লেন চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করতে দিন-রাত দুই শিফটে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাসেক-২-এর উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসাইন জানান, প্রকল্পের কাজ ২৪ ঘণ্টায় দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে। চলমান অগ্রগতি অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
প্রকল্পটিতে নির্মাণকাজের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হচ্ছে। সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, সার্ভের কাজে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের তদারকি ও মনিটরিংয়ের জন্য বিল্ডিং ইনফরমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে যমুনা সেতুর সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের চলাচল দ্রুততর হওয়ার পাশাপাশি কমবে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দ্রুত সময়ে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। এর ফলে বাজারে পণ্যের দাম কমারও সম্ভাবনা রয়েছে।
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানের মতে, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের বিভিন্ন প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কর্পোরেশন। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



