চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

বাংলা টিভি ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। জেলার তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেকেই বসতবাড়ি ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি এসব মানুষের মধ্যে রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কাজের সুযোগ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। শনিবার নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৭৯ মিটার। রোববার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৭৩ মিটারে। ওই স্থানে পদ্মার বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার।
পদ্মার পানি প্রবেশ করায় সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক সড়ক, বসতবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের জমিও। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম জানান, পদ্মার পানি বাড়ায় তার বাড়িঘর ডুবে গেছে। রান্নাবান্নার ব্যবস্থা নেই, রাস্তাঘাটও পানির নিচে। পরিবার নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তৌহিদুর রহমান বলেন, চর সেতারাপাড়া গ্রামের অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মানুষ ও গবাদিপশুর জন্য খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
প্লাবিত এলাকার শিক্ষা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, শিবগঞ্জের আটটি এবং সদর উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে পানির কারণে কৃষিতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১৩ দশমিক ৪ হেক্টর আউশ ও আমন ধান, মাসকলাই, হলুদ, মরিচ, কলা ও শাকসবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, পদ্মার পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের তিন হাজার ৯৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ৪৪ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, পদ্মার পানি ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বন্যার আশঙ্কা নেই এবং আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পানির উচ্চতা আরও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



