বাংলাদেশ

এক স্বামীকে নিয়ে দুই স্ত্রীর তুলকালাম

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক ইউপি সদস্যকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই নারী পরস্পরের চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের আলাদা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে। তিনি ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করাকে কেন্দ্র করেই দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। তাদের একজন নিজেকে লিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে জানান, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর লিটন তাকে বিয়ে করেছেন। এ সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে লিটনের প্রথম স্ত্রী এ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তাকে কোনো তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।

সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ নিয়ে দুই নারীর মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক জানান, দুই নারী একে অপরের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন এবং পরস্পরকে বলছিলেন, ‘তোকে লিটন তালাক দিয়েছে।’

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দুই নারীকে আলাদা করেন। পরে তাদের গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বারের জিম্মায় দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের চায়না বাজার এলাকায় নেওয়া হলে ঘটনাটি দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছেন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে তাদের চায়না বাজারে নিয়ে আসা হয়। দুজনই লিটনের স্ত্রী বলে দাবি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের নিজের জিম্মায় রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মিয়া জানান, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী একে অপরের চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের থামিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

নিজেকে লিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই নারী জানান, ফোনে লিটনের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। এরপর লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে সত্যিই তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে তিনি সেখানে যান। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, লিটন তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার আগের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

ওই নারী আরও দাবি করেন, তার আগে একটি সংসার ছিল। সেই সংসার ছেড়ে তিনি লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করা ব্যক্তি হিসেবেও পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর চায়না বাজারসহ রাজারহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ এটিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ঘটনাটির সামাজিক ও আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button