গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

‎বাংলা টিভির প্রতিবেদন দেখে মানিকের পাশে প্রশাসন

‎‘ঋণের রিকশা গেল, এখন কিস্তি দেবো কী করে’

গাইবান্ধা (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: ‎অটোরিকশা হারিয়ে ঋণের কিস্তি আর সংসারের খরচ নিয়ে দিশেহারা গাইবান্ধার অটোচালক মানিক মিয়া। তাঁর অসহায়ত্বের গল্প উঠে আসে বাংলা টিভির প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদন নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এরপরই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রশাসন।
‎
‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানিক মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ ও শুকনা খাবারসহ চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।
‎
‎প্রশাসনের এই সহযোগিতা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মানিক ও তাঁর পরিবারের মাঝে। তবে হারানো অটোরিকশাটি ফিরে পাওয়া এবং স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই এখন তাঁর প্রধান প্রত্যাশা।
‎
‎জানা যায়, মানিকের আধাভাঙা টিনের ছোট্ট ঘর। ঘরের এক কোণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানিক মিয়ার সংসার। আরেক কোণে থাকার কথা ছিল তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটি। কিন্তু সেই জায়গাটি এখনো খালি। অটোরিকশা হারানোর পর থেকেই দিশেহারা গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ঝিনেশ্বর গ্রামের অটোচালক মানিক মিয়া।

‎মানিক জানায়, গত ২৬ আগস্ট সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। গাইবান্ধা শহরের দাস বেকারির মোড় থেকে এক ব্যক্তি ধর্মপুর জুটমিলে যাওয়া-আসার কথা বলে ৪০০ টাকায় অটোরিকশাটি ভাড়া নেন। পরে দিনভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরের সামনে। সেখানে তৃষ্ণা মেটানোর কথা বলে তাঁকে জুস পান করতে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই অচেতন হয়ে পড়েন মানিক।
‎
তিনি আরও জানায়, সেই সুযোগে তাঁর মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ‎পরে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা মানিককে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
‎
‎এদিকে অটোরিকশা হারানোর পর বন্ধ হয়ে গেছে মানিকের আয়। একদিকে এনজিও ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে স্ত্রী-সন্তানের সংসারের খরচ সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তাঁর। এরই মধ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলা টিভিতে প্রচারিত হয় মানিকের অসহায়ত্বের গল্প। প্রতিবেদনটি নজরে আসে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাকের।
‎
‎এরপর তাঁর নির্দেশনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে মানিক মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ এবং চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ‎প্রশাসনের এই সহায়তায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মানিকের পরিবারে।

মানিক মিয়া বলেন, হারিয়ে যাওয়া অটোরিকশাটি যদি কোনোভাবে ফিরে পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আবার নিজের পেশায় ফিরতে পারবেন। আর যদি হৃদয়বান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁকে একটি অটোরিকশা কিনে দিয়ে সহযোগিতা করেন, তবে নিজের পরিশ্রমে অর্জিত আয় থেকেই তিনি আগের ঋণের কিস্তিগুলো পরিশোধ করতে পারবেন।
‎
‎সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্যও পুলিশ কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button