‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এই অভ্যাস সবার মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নগরবাসীর সম্মিলিত দায়িত্ব।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরের চান্দগাঁওয়ের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চসিকের এই কর্মসূচিতে আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করা হয়।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু নিজের বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের মানুষকেও সচেতন করতে হবে। তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে এডিস মশার প্রজনন অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে মেয়র জানান, ডেঙ্গুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ে এসব কার্যক্রম আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা তদারক করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের এই উদ্যোগে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।



