বাংলাদেশ

বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করাচ্ছেন কমলেশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: সুতিয়া নদীর স্বচ্ছ পানির স্রোত আর ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে আছে এক মানবিক গল্প। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা গ্রামগুলোর মানুষের পাশে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের কমলেশ চন্দ্র দাস। পেশায় তিনি একজন মাঝি হলেও স্থানীয়দের কাছে তার পরিচয় শিক্ষার্থীদের মানবিক অভিভাবক হিসেবে।

মাটির ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন কমলেশ। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন তিনি। সীমিত আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসারের ব্যয় মেটাতে হয় তাকে। কিন্তু নিজের এই সীমাবদ্ধতা কখনোই শিক্ষার্থীদের জন্য তার মানবিক দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

নদী পারাপার যেখানে অনেক মাঝির জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম, সেখানে কমলেশ চন্দ্র দাস দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে নদী পার করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তিনি এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

কমলেশের এই মানবিক উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়েছেন আশপাশের অন্য মাঝিরাও। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে তারাও শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পারাপারে সহযোগিতা করছেন।

কমলেশ চন্দ্র দাসের দীর্ঘদিনের এই নিঃস্বার্থ কাজ এবার প্রশাসনের নজরেও এসেছে। তার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এসেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। ‘ভালো কাজের ভালো মানুষ’ শীর্ষক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে কমলেশের মতো নীরবে সমাজের জন্য কাজ করে যাওয়া মানুষদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে।

তবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পারাপারের এই মানবিক কাজের সূচনা কমলেশের হাতে হয়নি। এর শুরু হয়েছিল আরও আগে। তার দাদা উমেশ চন্দ্র দাস প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই মানবিক দায়িত্ববোধ ও মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা ধরে রাখেন কমলেশ।

এভাবে উমেশ চন্দ্র দাসের হাত ধরে শুরু হওয়া সেবাটি দীনেশ চন্দ্র দাসের পর কমলেশ চন্দ্র দাসের মাধ্যমে আজও অব্যাহত রয়েছে। তিন প্রজন্ম ধরে কয়েক দশক ধরে কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারে সহযোগিতা করে আসছে পরিবারটি।

সুতিয়া নদীর দুই পাড়ের মানুষের কাছে তাই কমলেশ শুধু একজন মাঝি নন; তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক মানবিক দায়িত্ববোধের ধারক।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button