একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম, খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কল্পনা বেগম। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের সময় হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিন নবজাতকই বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তবে মা ও সন্তানদের চিকিৎসা, খাবার এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কল্পনার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট ফর্মুলা দুধ কিনতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে ইনফেকশনও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্মে কল্পনা বেগম আনন্দিত হলেও নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার স্বামী জায়দুল বাক্প্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারীঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বর্তমানে কল্পনা মা-বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
কল্পনা বেগম বলেন, একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় তিনি খুবই আনন্দিত। কিন্তু স্বামী বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার আয় সীমিত। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় মা-বাবার বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা ও সন্তানদের দেখাশোনা করছেন। বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় কোনোভাবে চিকিৎসা ও শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব নয়। সন্তানদের জন্য সরকারি বা অন্য কোনো উৎস থেকে সহায়তা পেলে তিনি উপকৃত হবেন।
কল্পনার মা-বাবাও তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিন নবজাতকের চিকিৎসা ও জীবনযাপনের জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।



