রডের বদলে বাঁশ দিয়ে সেতুর ফুটপাত ঢালাই, সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি( ডিজিটাল): টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সেতুটির সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির।
গ্রেপ্তার শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল উপজেলার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
ঘটনাটি তদন্তে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন এবং গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়তও তলব করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস সড়কের মাইজখাড়া জিপিএস অংশে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারা ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে আবারও রাতে কাজ শুরু করে তা শেষ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও পরিদর্শনে নামে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে কাজটি সম্পন্ন করেন। তিনি ঘটনাটিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। কাজের মান যাচাইয়ে ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর করা মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



