ভাত চুরি নিয়ে সন্দেহ, আজমুলের ওপর একটানা ৩ ঘণ্টা চলে নির্যাতন

বাংলা টিভি ডেস্ক: খুলনায় আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামি প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক ইব্রাহিম খলিল মুহিমের খাস কামরায় পৃথকভাবে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই আসামির দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্যের মিল পাওয়া গেছে। এর আগে মঙ্গলবার একই মামলার আরেক আসামি হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান রুবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আজমল ভবনের একটি মেসে কয়েক দিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটছিল। মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আজমুলকে এসব ঘটনায় সন্দেহ করতে থাকেন। পরে মেহেদীর ডাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনায় আসেন আজমুল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে মেস থেকে ভাত চুরি যাওয়ার পর রাত ১১টার দিকে আজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহেদী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রবিন, রুহুল ও রিফাত মেসের ছাদে নিয়ে যান। পরে ভবনের সামনে থাকা জুস বিক্রেতা রুবেলসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন।
ওসি জানান, একপর্যায়ে জুস বিক্রেতা রুবেলের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আজমুলকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ বলছে, আজমুলের টেবিলের নিচ থেকে ভাতের একটি গামলা পাওয়ার পর তাকে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে ধরে মারধর করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশ ও এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামির মধ্যে তিনজনের বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রিফাতকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বুধবার প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান রুবেলও একই ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার চতুর্থ আসামি শেখ আসিফ বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মেসের ম্যানেজার মেহেদী বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আজমুলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দেওয়ার কথা বলে টাকা চাওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা গেলে আজমুলের প্রতি তার ক্ষোভের কারণ ও ঘটনার পেছনের অন্যান্য বিষয় আরও পরিষ্কার হবে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আজমুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মেহেদীর কোনো আর্থিক বা অন্য ধরনের ক্ষতি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।



