রাজনীতি

দিনভর বাধা শেষে রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা, আসামি ১১

বাংলা টিভি ডেস্ক: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা উত্তেজনা, বাধা ও দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

বুধবার (৩০ জুলাই) জারি থাকা ১৪৪ ধারার মধ্যেই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার তুষার।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে হামলার পাশাপাশি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট, ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার একটি গাড়ি ভাঙচুরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এনসিপির নেতাকর্মীদের শহরে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে দলের জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মামলা করতে এসেও তাদের কয়েক দফা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং দলের নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

এর আগে ২৮ জুলাই পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। একই দিনে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলও কর্মসূচি ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়া এনসিপির গাড়িবহরকে প্রথমে শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্যের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে বাহুবলের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় এবং সর্বশেষ কামাইছড়ায় আবারও তাদের গতিরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রতিনিধি দলকে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button