বাংলাদেশ

ঘরছাড়া ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েই বুকে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার এক ব্যক্তি। সিংগাইরের একটি গ্রামের সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় থাকা ওই নারীকে শনাক্ত করতে ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বামী সেখানে পৌঁছে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে সাটুরিয়ার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ওই নারী। মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা ঠিকভাবে বলতে পারছিলেন না। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, মাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন তার স্বামী।

অন্যদিকে, নিখোঁজ হওয়ার পর ওই নারী মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে দিন কাটানোর পাশাপাশি খাবার ও আশ্রয়ের জন্য মানুষের কাছে ঘুরছিলেন তিনি।

এ সময় ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামের স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক ওই নারীকে দেখতে পান। তার অসহায় পরিস্থিতি দেখে তিনি বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একপর্যায়ে তা ওই নারীর স্বামীর কাছেও পৌঁছে যায়। ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করেন এবং নির্দিষ্ট স্থানে ছুটে যান।

মঙ্গলবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বামী-স্ত্রীর দেখা হলে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় থাকলেও পরিচিত মানুষটিকে দেখেই ওই নারী তাকে চিনতে পারেন। এরপর স্বামী তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং স্ত্রীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা এ দৃশ্য দেখেন।

স্বামীর কাছে ফিরে আসার পর ওই নারী তার সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে স্বামী আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুনর্মিলনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকে আবেগাপ্লুত হন এবং অসহায় নারীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় ওই নারীকে দেখে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। তখনই মনে হয়েছিল, যেভাবেই হোক তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই তার বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। অবশেষে গত মঙ্গলবার তার স্বামী এসে তাকে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, সেই মুহূর্তটি আমার জন্য সত্যিই আবেগঘন ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। একজন অসহায় মানুষকে তার আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button