২০৩০ সালে দুইবার রমজান, এই বিরল ঘটনার নেপথ্যে কী

বাংলা টিভি ডেস্ক: ২০৩০ সালে এক বিরল মহাজাগতিক ও বর্ষপঞ্জিগত সমন্বয়ের কারণে একই ক্যালেন্ডার বছরে দুবার রমজান মাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর মুসলমানদের দুই দফায় রোজা পালন করতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে দিনের সংখ্যার পার্থক্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতিবছর রমজান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা আগে শুরু হয়।
এই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে প্রথম রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৫ জানুয়ারি। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবার রমজান মাস শুরু হবে। অর্থাৎ এক ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যেই দুইবার রমজানের আগমন ঘটবে।
এর ফলে ২০৩০ সালে মোট ৩৬ দিন রোজা পালনের সুযোগ তৈরি হবে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে প্রায় ৩০ দিন এবং বছরের শেষ দিকে ডিসেম্বর মাসে আরও ছয় দিন রোজা থাকবে।
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সৌরবর্ষের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হলেও ইসলামী বর্ষপঞ্জি নির্ভর করে চন্দ্রচক্রের ওপর। একটি ইসলামি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের, যা সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম।
এই সময়ের পার্থক্যের কারণে প্রতিবছর ইসলামি মাসগুলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। ফলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে রমজান বছরের বিভিন্ন ঋতুতে ঘুরে ফিরে আসে। প্রায় ৩৩ বছর পর এই চক্রটি আবার কাছাকাছি অবস্থানে ফিরে আসে।
এর আগে ১৯৯৭ সালে একই ক্যালেন্ডার বছরে দুবার রমজান পড়েছিল। ২০৩০ সালের পর আবার এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে ২০৬৩ সালে।
রমজান মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় মাস। এ মাসে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করা হয়। তবে বছরের কোন সময়ে রমজান পড়ছে তার ওপর রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়। শীতকালে দিনের সময় তুলনামূলক কম হওয়ায় রোজার সময়ও কম থাকে, আর গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে তা ১৭ ঘণ্টার বেশি হতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের মাধ্যমে রমজানের সম্ভাব্য সময় আগে থেকেই নির্ধারণ করা গেলেও এর আনুষ্ঠানিক শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। সৌদি আরবসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশ ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখার পদ্ধতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতেও রমজানের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে।



