ধর্ম

এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শৈশব থেকেই আমরা জেনে এসেছি—এক বছরে দুটি ঈদ, আর হজ হয় একবার। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই পরিচিত নিয়মেও দেখা দিতে যাচ্ছে ব্যতিক্রম। এমন একটি বছর আসছে, যখন একই ইংরেজি বছরে দুইবার হজ এবং তিনটি ঈদ পালনের ঘটনা ঘটবে। সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর পেছনে মূল কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন থাকে। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বছরে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। ফলে প্রতি বছর হিজরি তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার কথা। সেদিন হবে হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ—অর্থাৎ হজের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সমাপ্তি এবং কোরবানির ঈদ।

এর প্রায় এক বছর পর একই গ্রেগরিয়ান বছরের শেষ দিকে আবারও আসবে ১০ জিলহজ। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা, যা হবে হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ। অর্থাৎ ২০৩৯ সালের মধ্যেই মক্কায় পরপর দুই হিজরি বছরের হজের সময় পড়ে যাবে।

দুই হজের মাঝখানে অবশ্যই পড়বে ঈদুল ফিতর। হিসাব অনুযায়ী, সেটি হতে পারে ১৯ অক্টোবর। ফলে ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে দেখা যাবে—দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর; অর্থাৎ মোট তিনটি ঈদ।

তবে এখানে ‘এক বছরে দুই হজ’ বলতে হিজরি হিসাবে অতিরিক্ত কোনো হজ বোঝানো হচ্ছে না। বরং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের একটি বছরের মধ্যে পরপর দুটি হিজরি বছরের হজের সময় পড়ে যাওয়াকেই বোঝানো হচ্ছে।

শুধু হজ বা ঈদ নয়, একই ধরনের ব্যতিক্রম দেখা যাবে রমজানেও। ২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুবার রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—একটি বছরের শুরুতে এবং অন্যটি বছরের শেষ দিকে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

চান্দ্র ও সৌরবর্ষের এই পার্থক্যের কারণেই কয়েক দশক পরপর এমন বিরল ক্যালেন্ডারগত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button