বাংলাদেশ

বিদ্যালয়ের সভায় ‘কথা কস ক্যারে’ বলে শিক্ষিকাকে থাপ্পড় শিক্ষকের

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনাটি গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। পরে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি সভায় প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে। এ সময় পাশে বসা তার স্ত্রী ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে খুরশেদ আলম স্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’ জবাবে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এরপর খুরশেদ আলম বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখখা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’

এরপরই তিনি স্ত্রীকে থাপ্পড় মারেন এবং তাকে ‘বাইর হ’ বলে ধমক দেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পাঁচ দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সোমবার (৫ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ের মতো কর্মস্থলে একজন শিক্ষক অন্য শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ চাকরির বিধিবিধানের পরিপন্থী। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম বলেন, ঘটনার সময় তিনি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তবে তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button