১ মিনিটে দুই ট্রেনের শতভাগ টিকিট উধাও, ক্ষোভ আশফাক নিপুণের

বাংলা টিভি ডেস্ক: অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই কক্সবাজারগামী দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ। এমন ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রেলওয়ের টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি ও কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে ব্যঙ্গ করে ঘটনাটিকে ‘কমার্স ফিকশন’ বলে মন্তব্য করেছেন এই নির্মাতা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে টিকিট কাটার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আশফাক নিপুণ।
তিনি জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বয়োবৃদ্ধ সেজো মামা। বয়সের কারণে দীর্ঘ সময় বাসে বসে ভ্রমণ করা তাঁর জন্য কষ্টকর হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
নিপুণের ভাষ্য, যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কথা জানতে পেরে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট আগেই তিনি মোবাইল ফোন নিয়ে প্রস্তুত হয়ে বসেন। টিকিট কাটার সময় যাতে কোনো নোটিফিকেশন বা অন্য কোনো বিষয় বাধা সৃষ্টি না করে, সে ব্যবস্থাও নেন তিনি।
সকাল ৮টা বাজতেই টিকিটের সার্চ অপশনে গিয়ে খালি আসন দেখতে পান বলে জানান নিপুণ। তবে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার পর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই তিনি দেখতে পান, দুটি ট্রেনের সব আসন বিক্রি হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি টিকিট কাটার প্রক্রিয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, একটি আসন নির্বাচন, ওটিপি দেওয়া, পেমেন্টের তথ্য পূরণ এবং লেনদেন নিশ্চিত করতে সাধারণত কয়েক মিনিট সময় লাগে। সে ক্ষেত্রে এক মিনিটের মধ্যে দুটি ট্রেনের সব টিকিট কীভাবে শেষ হয়ে গেল, সেটিই তাঁর প্রশ্ন।
ঘটনাটিকে ব্যঙ্গ করে আশফাক নিপুণ বলেন, জুল ভার্নের ‘৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণ’-এর মতো তাঁদের রেলওয়ে যেন ‘এক মিনিটে দুই ট্রেন গায়েব’-এর গল্প উপহার দিয়েছে। এ কারণেই তিনি পুরো ঘটনাকে ‘কমার্স ফিকশন’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ফেসবুক পোস্টে রেলওয়ের টিকিট ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কথিত সিন্ডিকেট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রভাবশালী একটি চক্রের দাপট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিপুণ আরও বলেন, কোনো সরকার যদি বিমানবন্দর ও রেলওয়ের দীর্ঘদিনের এই কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের জন্য টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা সহজ করতে পারে, তাহলে সেই সরকারকে তিনি বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত।
এদিকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরপরই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া এবং এ নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলি-১১) বিষয়টি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। পরে ১ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে পিবিআইয়ের একজন উপপরিদর্শক মামলাটি তদন্ত করছেন।



