বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি বিউটি পণ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কোরীয় বিশেষজ্ঞ ড. কিম

বাংলা টিভি ডেস্ক: গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা গেলে বাংলাদেশের কসমেটিকস ও বিউটি পণ্য বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়ার কসমেটিকস বিশেষজ্ঞ ড. কিম জুন হো। তার মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও মানসম্মত উৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পের মতো কসমেটিকস খাতও দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশি বিউটি ব্র্যান্ড স্কিনোর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সেমিনারে ড. কিম জুন হো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিউটি পণ্য ‘কে-বিউটি’ ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একইভাবে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় ব্র্যান্ড স্কিনো কে-বিউটির আদলে মানসম্পন্ন পণ্য তৈরিতে কাজ করছে। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। এ খাতে অন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রায় দুই ঘণ্টার সেমিনারে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরদার করা, নতুন উপাদান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই কোরীয় বিশেষজ্ঞ।
ড. কিমের মতে, এ শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ও ভোক্তাদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনে নিয়মিত বিনিয়োগ করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে স্কিনোর পণ্যের মানোন্নয়ন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কৌশলগত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে ড. কিম জুন হোর।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন স্কিনোর মাদার অর্গানাইজেশন বিআর্থের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সরওয়ার কামাল, চিফ বিজনেস অফিসার (সিএফও) ফয়সাল আল জাবের, কসল্যাবের পরিচালক আহসান উদ দৌলা এবং হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নেওয়াজ নাসিম।
আলোচনায় বক্তারা দেশের কসমেটিকস শিল্পে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন এবং কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দেওয়া গেলে দেশীয় বিউটি পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কসমেটিকস ফর্মুলেশন, উপাদান, অ্যাডভান্সড ডেলিভারি সিস্টেম, ন্যানোটেকনোলজি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. কিম জুন হোর। কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আমোরে প্যাসিফিক, ইন্টারকস কোরিয়া, সিনসেগে ইন্টারকস কোরিয়া ও সিনসেগে ইন্টারন্যাশনাল।



