ইসরাইলে ৫ ঘণ্টা হামলা চালিয়েছে ইরান
গোয়েন্দা কেন্দ্র ও বিমানঘাঁটি ধ্বংসের দাবী

ইসরাইলের মাটিতে নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলার জেরে প্রতিশোধমূলক এই হামলা চলেছে ৫ ঘন্টা ধরে। এতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্যের দাবি করেছে ইরান।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ইরানের চালানো এ হামলা ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার কারণে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল ইরাক ও জর্ডান। বন্ধের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আকাশসীমা খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছে দেশ দুটি।
এদিকে দখলদার ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি গোয়েন্দা ঘাঁটি ও একটি বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাগেরি এ দাবি করেছেন। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়ার ভাষণে তিনি এ দাবি করেন।
এ হামলাকে সফল বলে আখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদ বাগেরি। তিনি বলেন, গতকাল কোনো বেসামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়নি। শুধু সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়েছে। বিশেষ করে হেরমন পর্বতে ইসরাইলের একটি গোয়েন্দা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। দামেস্ক কনস্যুলেটে হামলায় ওই ঘাঁটি জড়িত।
তিনি বলেন, নেগেভ মরুভূমিতে ইসরাইলের নেভাতিম বিমানঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। সেখান থেকে ইসরাইলের যুদ্ধবিমানগুলো কনস্যুলেটে হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের হামলায় এই দুটি লক্ষ্যবস্তুই ‘উল্লেখযোগ্যভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে’ জানিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, গতকালের হামলার চেয়ে ‘১০ গুণ শক্তিশালী’ হামলা চালাতে সক্ষম তেহরান।
ইরানের এ হামলার জবাবে ইসরাইল ‘অনেক বড় পরিসরে’ হামলা চালাতে পারে বলেও বাগেরি সতর্ক করেছেন। তবে ইসরাইল যদি এ হামলার জবাব না দেয়, তাহলে দেশটিতে আর কোনো হামলার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে জানান তিনি ।
অপরদিকে, ইরানের হামলার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইসরাইল স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক হাজার জনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং ইরানের হামলার কারণে মানুষের জমায়েত সীমিত রাখা হবে।
ইসরাইলে হামলায় ইরানের ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে এক বিশ্লেষণে আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান ইসরাইলে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ১১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল বহু স্তরবিশিষ্ট। যা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে, এগুলো ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। বাংলা টিভি



