আন্তঃসম্প্রদায়ের স্বেচ্ছায় বিয়ে নিয়ে সহিংসতা, পুড়ল শতাধিক বাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোবাবাদ জেলায় ভিন্ন সম্প্রদায়ের এক যুবক-যুবতীর স্বেচ্ছায় বিয়ে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চান্না সম্প্রদায়ের সিদরা চান্না স্বেচ্ছায় বুরিরো সম্প্রদায়ের মুহাম্মদ হাসান বুরিরোকে বিয়ে করেন। গত ৪ মে হায়দ্রাবাদের একটি আদালতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বরপক্ষের দাবি, বিয়ের জেরে সাদ্দাম বুরিরো ও আদিবাসী নেতা আহমেদ আলী চান্নার নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র ব্যক্তি বুরিরো সম্প্রদায়ের গ্রামে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বরের বাবা মালহার বুরিরো অভিযোগ করেন, একটি বিয়ের ঘটনার জন্য পুরো গ্রামকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। হামলার সময় তারা আতঙ্কে কিছুই করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
তবে চান্না সম্প্রদায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নাবালিকা এক মেয়েকে অপহরণ করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, সিন্ধুর বাল্যবিবাহবিরোধী আইন লঙ্ঘন করে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জান আলী।
এদিকে ওই দম্পতি একটি ভিডিও বার্তায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।



