বরগুনায় পাউবো’র জমি ভরাট করে কোটি টাকার বাণিজ্য

||বেলাল হোসেন মিলন, বরগুনা||
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জলাশয় ভরাট করে প্লট হিসাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল।
বরগুনার আমতলী উপজেলা সদরের চাওড়া ইউনিয়নে ৩বছর মেয়াদী মৎস্য, প্রাণী ও কৃষি সম্পদ উন্নয়নের জন্য জলাশয় ইজারা নিয়ে রাতারাতি নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সচিবালয় ঢাকা, কর্তৃক প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ ইং তারিখে বরগুনার আমতলী উপজেলার ৩০নং চাওড়া মৌজার সিট নং-১, যাহার পোলডার নং-৪৩/১ পাউবো’র জমি ইজারা, বন্দোবস্ত দেয়ার উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। চিঠির স্বারক নং-৩৫ পাউবো সচিব বোর্ড-২। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ইজারা দেয়া নেয়া অব্যাহত আছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, মৎসচাষ, হাস মুরগী ও কৃষি কাজ করার জন্য ৩বছর মেয়াদী ইজারা নিয়ে ড্রেজার লাগিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করে রীতি মত প্লট বিক্রির মহা উৎসব ও প্রতিযোগিতায় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যে নেমে পরেছেন যে যার মত করে।
ইজারা নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ ও প্লট বিক্রেতা নাজমা বেগম বলেন, এখানে যত বাড়িঘর দেখেন সবাই আমার মত লিজ এনে বালু ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার জন্য বিক্রি করে। আমি ২০০১ সালে লিজ নেয়ার আগে এখানে অনেক বড় পুকুর ছিল তা অনেক টাকা খরচ করে ভরাট করছি দেখেন ওই যে আমার পার্শে এখন ড্রেজার লাগিয়ে ভরাট করতেছে তারাও প্লট করে বিক্রি করবে।
পূর্বের রেকার্ডীয় মালিক ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭১ইং সালে আমতলীতে বেড়ী বাধ দেয়ার জন্য সরকার তাদের জমি একর করে নেয়ার পর যে জমি অবশিষ্ট ছিলো তা ভয়াল পায়রা নদীতে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে এখন একটা ঘর দেয়ার মত কোন জায়গা নেই বলে জানান অনেকে। তারপর তারা ১৯৪৮ সালের আইন অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি যাহা বর্তমানে, ভবিষ্যতে বোর্ডের কাজের স্বার্থে ব্যবহৃত হবেনা সে জমি পূর্বের মালিকেরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যর্পণ, অবমুক্তি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে গত ১৬জুন ১৯৯১ইং তারিখ কিন্তু তাদের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন দীর্ঘ ২১বছরেও কোন সুরাহা পাননি ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।
আরো বলেন, বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ৩বছর মেয়াদী মৎস্য, প্রাণী ও কৃষি সম্পদ উন্নয়নের জন্য ইজারা নিয়ে চাওড়া ইউনিয়নের ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের প্রায় ১শ একর জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করে প্লট হিসাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। আর রাতারাতি নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। পূর্বের রেকার্ডীয় মালিকেরা বাংলাটিভি অনলাইন’র মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সমস্যা সমাধানসহ পাউবো’র জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহিন তালুকদারসহ একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সামনে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট দিয়ে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হলেও তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অর্থের বিনিময়ে অবৈধ দখলদারদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর এ সুযোগে একের পর এক পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান, অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড এরই মধ্যে দখলদারদের নোটিশ দিয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।’
বাংলাটিভি/এসএম/এবি



