বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও ছাত্র সংসদ চায়

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ছাত্র সংসদ না থাকায় নানাবিধ সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা বলার কেউ নেই। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নড়াচড়া শুরু হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইউজিসি।
২০১০ ও ২০১৫ সালে টিউশন ফি’র উপর ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে সফল আন্দোলন করেছিলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিজস্ব দাবি আদায়ের পাশাপাশি গেলো ক’বছর ধরে জাতীয় নানা ইস্যুতেও তাদের সরব উপস্থিতি ও হামলা-মামলার শিকার হওয়া সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
সফলতা পেলেও এসব আন্দোলন ধরে এখন পর্যন্ত কোনও শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনের দেখা মেলেনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা ও ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তাকে এড়িয়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাখাতে ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের নেতা সালাহ্ উদ্দিন মিঠু বলেন,’ছাত্রদের বিভিন্ন ক্যাম্পাস কেন্দ্রীক বিভিন্ন দাবি থাকতেই পারে। কিন্তু সেগুলো কথা বলার মতো আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রতিনিধি নেই। এর বাহিরেও সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়া পড়েছে। এই সাম্প্রদায়িকতা থেকে যদি আমরা তাদের বের করে আনতে চাই তাহলে, আমাদের অবশ্যই ছাত্র সংসদ দরকার।’ শিক্ষার্থীরাও মনে করেন নিজস্ব দাবি দাওয়া সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে ছাত্র সংসদ দরকার।
শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদের দাবি সম্পর্কে বলেন, গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান ও দাবি দাওয়া সম্পর্কিত হয় তাহলে ভালো হবে।
ইউজিসি বা সরকার থেকে যদি কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে ছাত্রদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলেও জানান অনেকেই।
ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার না করলেও বিষয়টি পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খার উপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) উপাচার্য এইচ এম জহিরুল হক বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভবিষ্যতে যদি কখনও ছাত্র সংসদ করি তাহলে সেটা খুব ভালো একটা মানের হবে। যার দ্বারা আমাদের শিক্ষার্থী এবং দেশ লাভবান হবে। প্রয়োজন হলে এমনিতেই হয়ে যাবে। আর প্রয়োজন ছাড়া জোর করে বানাতে হবে সেটাও না।’তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ছাত্র সংসদ যেটা তৈরি করবে সেটা যেন ছাত্রদের মঙ্গলের জন্য হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষতিগ্রস্থ হয় এমন কোনও কাজ তারা করবে না।
বাংলাটিভি/পাইক



