আন্তর্জাতিকএশিয়া

আজ মিয়ানমারের বক্তব্য শুনবে আদালত

‘দুষ্টের জয়ী হওয়ার জন্য একমাত্র যা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ভালো মানুষদের কিছু না করা’ উদ্ধৃত করে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু বলেন, বিশ্ব দীর্ঘদিন নীরব দর্শক হয়ে থাকায় এমনটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, গণহত্যা রাতারাতি ঘটে না, তার জন্য যুগ যুগ ধরে ঘৃণা আর বিদ্বেষ লালন করা হয়। একটি জাতিগোষ্ঠীকে মানবেতর প্রাণীতে পরিণত করার প্রক্রিয়া মিয়ানমার অনেক দিন ধরে অনুসরণ করে এসেছে।

কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা করে পার পেয়ে গেছে মিয়ানমার। কখনোই আইনের তোয়াক্কা করেনি। এবারই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গেছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গাম্বিয়া।

বিশ্ব শান্তির জন্য পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ১৭ জন বিচারপতির সামনে হাজির হয়েছেন। অভিযোগকারী আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু মানবতাবিরোধী এ নৃশংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন।

এছাড়াও গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যেসব অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধ রাখা, গণহত্যার কোনো আলামত নষ্ট না করা, জাতিসংঘের তদন্তকারীসহ অন্যদের আরাকানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অবাধে প্রবেশাধিকার দেওয়া।

ওআইসির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাসহ আইনি পদক্ষেপ নিতে এ পর্যন্ত গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, কাতারের পাশাপাশি বাংলাদেশও গাম্বিয়াকে ওই তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতায় রাজি হয়েছে।

বুধবার মিয়ানমারের বক্তব্য শোনা হবে। বৃহস্পতিবার আদালত বসবেন দুই বেলা। সকালে গাম্বিয়া ও বিকেলে মিয়ানমারের জবাব ও নতুন কোনো যুক্তি থাকলে সেগুলো শোনা হবে। আদালতের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে ধারণা দেওয়া হয়, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close