পানি না দিলে ভারতকে করিডর-ট্রানজিট কোনোটিই নয়: নাহিদ ইসলাম

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে কোনো ধরনের করিডর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে ভারতীয় পণ্য আমদানি এবং দেশটিতে উৎপাদিত টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত যুব সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো করিডর বা ট্রানজিট সুবিধাও দেওয়া হবে না। এমনকি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রাখার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন গঠন, গণভোট আয়োজন এবং জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকার এসব উদ্যোগের প্রত্যাশিত বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলামের দাবি, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। জনগণ দুই দফায় পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাই নতুন কোনো কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নয়, বরং গণভোটের রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সংস্কার নিয়ে সরকারের গড়িমসির পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অতীতের ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। আগামী নির্বাচনে পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের মজুরির দাবি
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং রাষ্ট্র সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, তরুণদের জন্য সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি করে সেখানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের চেষ্টা চলছে। অথচ চাকরিতে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
এ ছাড়া ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং রাজনৈতিক মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের সমালোচনা
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিনি বলেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও তথ্য থাকার পরও এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে যথাযথ সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না। সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
অনুষ্ঠানে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আওয়ামী লীগকে ‘গোখরা সাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের আশপাশে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।



