তৃতীয় সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে সরকারি ভাতা

বাংলা টিভি ডেস্ক: পরিবার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে পরিবারকে ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি প্রণোদনা দেবে সরকার।
রোববার (১৭ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, লোকসভায় আসনসংখ্যা বাড়ানোর কেন্দ্রীয় উদ্যোগের সঙ্গেই এই নীতির সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি তারা জাতীয় পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা নীতি কার্যকর না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
শনিবার শ্রীকাকুলাম জেলার নারসান্নাপেটায় এক অনুষ্ঠানে নাইডু বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে বহুবার ভেবেছি। অতীতে আমি পরিবার পরিকল্পনার পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু এখন আবার এমন সময় এসেছে, যখন সন্তানরাই আমাদের সম্পদ। তাদের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’
তেলেগু দেশাম পার্টির প্রধান বলেন, ‘তাই আমি আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তৃতীয় সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ৩০ হাজার রুপি দেব। আর চতুর্থ সন্তানের জন্য দেওয়া হবে ৪০ হাজার রুপি।’ তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই কমে যাওয়া জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভারত যেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আয় বাড়ার কারণে অনেক দম্পতি এখন মাত্র একটি সন্তান নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রথম সন্তান মেয়ে হলে তবেই দ্বিতীয় সন্তানের কথা ভাবছেন।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে ২ দশমিক ১ মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি নারীর গড়ে ২ দশমিক ১ সন্তান থাকলেই একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কার্তি চিদাম্বরম। তিনি এক্সে এনডিটিভির প্রতিবেদন শেয়ার করে মাত্র একটি শব্দ লেখেন, ‘সত্যি নাকি?’
ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের মুখপাত্র অলোক শর্মা বলেন, ‘গত ১২ বছরে দেশে পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কার্যত কোনো আলোচনা বা জাতীয় নীতি হয়নি। লোকসভায় আসনসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, আর দক্ষিণ ভারতে এই বার্তা গেছে যে ভবিষ্যতে তাদের জনসংখ্যা কম থাকলে তাদের আসনও কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। পরিবার নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নীতি কেন আনা হচ্ছে না?’



