
বগুড়া প্রতিনিধি (ডিজিটাল): জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও অন্যায়ের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে হবে। বগুড়াকে এমন একটি জেলায় পরিণত করতে হবে, যেখানে চাঁদাবাজি, মাদক, ধর্ষণ ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আসবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার ঘটছে।
ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির শিকার হলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “ভয় পাওয়ার একমাত্র সত্তা মহান আল্লাহ। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ভারত সীমান্তে বাংলাদেশকে ঘিরে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু সংসদে যথাযথভাবে আলোচিত না হওয়া দুঃখজনক। এসব বিষয়ে জাতীয় স্বার্থে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
নারীর অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস খাতে কর্মরত লাখো নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পেশিশক্তি, অস্ত্রের ভয় ও দমন-পীড়নের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে এসে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে না, কেউ না খেয়ে থাকবে না এবং দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতিহাসে প্রতিবারই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৎ, যোগ্য ও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এনসিপি তার দায় নেবে না; বরং জনগণের পক্ষেই অবস্থান নেবে।
সমাবেশের শেষদিকে তিনি বগুড়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বৈষম্য, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।



