রাজনীতি

একসঙ্গে মাদ্রাসা সুপার ও পোস্টমাস্টার পদে চাকরি আ.লীগ নেতার

বাংলা টিভি ডেস্ক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একই সময়ে মাদ্রাসা ও ডাক বিভাগের দুটি পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুরের একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসে অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইকরাম হোসেন উপজেলার পূর্ব এখলাছপুরের দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে ছিলেন। তবে মামলাজনিত কারণে বর্তমানে তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এমপিও সুবিধা গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার পদ থেকেও তিনি বেতন-ভাতা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি তার দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্বে না থাকলেও তিনি শিক্ষক হিসেবে এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন, কয়েক মাস আগেই তিনি পোস্টমাস্টারের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে জুন মাসের বেতন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করায় বেতন নিয়েছেন। পরে দাবি করেন, ওই অর্থ ফেরত দিয়েছেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় চাকরির তথ্য গোপন করে ইকরাম হোসেন হামিদ ডাক বিভাগের ইডিএ পদে কাজ করেছেন। তিনি জুন মাসের বেতনও গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি জানার পর ওই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইকরাম কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তবে জেলা পোস্ট পরিদর্শকের নির্দেশে তার বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হলেও আইবাস++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম চলছে। ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার পদে বেতন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন।

চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতন রোল পাঠানো হবে না।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি পদে চাকরি করতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার পদ থেকে গত ৩০ এপ্রিল দেওয়া একটি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান। তবে ওই পদত্যাগপত্রে গ্রহণের কোনো স্বাক্ষর বা প্রমাণ নেই।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button