‘ইলেকশন করে গদি মোটা হয়ে গেছে, জনগণকে আর গোনার টাইম নাই’

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিএনপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার পর দলটি জনগণের প্রত্যাশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করলে অতীতের মতো রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার ছাড়া শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি জনগণ মেনে নেবে না। তার ভাষ্য, জনগণের দাবিকে অবহেলা করলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিই টিকে থাকতে পারবে না।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অতীতের শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দলীয় প্রভাবের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তার দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সভায় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দলটি কাজ করছে।
পথসভা শেষে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মুকুল মিয়া এবং কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র পদে মাসুম মিয়াকে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়ের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।



