যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিক

পরিস্থিতি বেগতিক দেখলেই বারবার দায় এড়ান ট্রাম্প; দোষ চাপান অন্যের ঘাড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে ‘দ্য বাক স্টপস হিয়ার’—অর্থাৎ চূড়ান্ত দায়ভার নিজের কাঁধে নেওয়ার ধারণাটি বহুল পরিচিত। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই নীতির ব্যতিক্রমই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে সমালোচনা উঠেছে।

অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্পের দাবি, এসব সমস্যা তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে পেয়েছেন। যদিও বাইডেন দায়িত্ব ছাড়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এবং ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একইভাবে, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজে সমস্যা দেখা দিলে ট্রাম্প সেটিকে নাশকতার ফল বলে দাবি করেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নিয়োগ দেওয়া এক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিম্নমানের কাজের কারণেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে জনসমর্থনে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়েও ট্রাম্প পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে আগের প্রশাসনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টরা বিভিন্ন সময়ে পূর্বসূরি, কংগ্রেস কিংবা অন্য পক্ষকে সমস্যার জন্য দায়ী করে থাকেন। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা তুলে ধরলেও কোনো পরিস্থিতি খারাপ হলে দায় অন্যদের ওপর চাপানোর রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছেন।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক নিকোল অ্যানস্লোভার মনে করেন, নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নিজের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করা।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক অবস্থান আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের মতে, ভুল স্বীকার করতে অনীহার কারণে কখনো কখনো তিনি সমস্যার অস্তিত্বই অস্বীকার করেন। এতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটারদের উদ্বেগ মোকাবিলা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন না; বরং দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কর ছাড়, প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালী করার মতো উদ্যোগকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে প্রশাসন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ব্যবস্থাটিকে সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তিনিই সেটি ঠিক করতে পারবেন। তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিভিন্ন বক্তব্যে তাঁর অবস্থান অনেক সময় এমন হয়েছে—সমস্যা সমাধানের কৃতিত্ব নিজের, আর ব্যর্থতার দায় অন্যদের।

এর আগেও এমন বক্তব্যের নজির রয়েছে। ২০১৯ সালের সরকারি শাটডাউনের সময় তিনি দায় সবার ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেছিলেন। আবার ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দিন করোনা পরীক্ষার ঘাটতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ফলে সমালোচকদের কাছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে—ক্ষমতা ও সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের দিকে রাখা, কিন্তু সংকট বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দায় অন্যের ওপর চাপানো।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button