সোশ্যাল মিডিয়ায় ৫০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ‘প্রেমিক ভাড়া’র বিজ্ঞাপন

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘রেন্ট বয়ফ্রেন্ড’ বা ভাড়ায় বয়ফ্রেন্ড দেওয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ। এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে বলে জানিয়েছে হায়দ্রাবাদ পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞাপনগুলোতে একাকীত্ব দূর করা, কফি খাওয়া, সিনেমা দেখা, শপিং কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে সঙ্গী হওয়ার জন্য তরুণ ভাড়া দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজের মূল্যও উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
হায়দ্রাবাদ পুলিশ কমিশনার ভিসি সজ্জনার জানান, এটি সাইবার অপরাধীদের একটি নতুন ধরনের প্রতারণার কৌশল, যেখানে বিশেষ করে তরুণীদের টার্গেট করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত তরুণদের ছবির সঙ্গে বাস্তব ব্যক্তিদের মিল নাও থাকতে পারে। এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আগ্রহী নারীরা বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি চাওয়া হয়। এরপর কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়। বুকিং চূড়ান্ত করার কথা বলে অগ্রিম টাকা চাওয়া হয় এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি বা কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়।
পুলিশ আরও আশঙ্কা করছে, এ ধরনের প্রতারণায় ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, ছবি বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই অপরিচিত কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভিসি সজ্জনার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এর পেছনে রয়েছে এবং কোথা থেকে এই প্রতারণা পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ভুক্তভোগী সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।
মনোবিজ্ঞানী অনিতা আরে বলেন, কিশোর-কিশোরীদের এ ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। পরিবারে তাদের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ না করে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি সম্পর্কে বোঝানো উচিত।
ভারতে সামগ্রিকভাবে সাইবার অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটিতে ৬৫ হাজার ৮৯৩টি সাইবার অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৪২০টিতে এবং ২০২৪ সালে তা ১ লাখ ১ হাজার ৯২৮-এ পৌঁছায়। এর মধ্যে নারীদের সংশ্লিষ্টতার ঘটনাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়।



