আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে চান ছেলে থেকে মেয়ে হওয়া অনয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পেশাদার ক্রিকেটে ফেরার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে অনয়া বাঙ্গারের সামনে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে খেলার অনুমতি পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অনয়া সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে একসময় প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে কাছের মানুষদের সহযোগিতা ও সমাজের কিছু অংশের গ্রহণযোগ্যতা তাকে আবারও নিজের স্বপ্নের পথে ফিরতে সাহস জুগিয়েছে।

‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনয়া বলেন, বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা আশা করছেন। তার মতে, নারী ক্রিকেটে তার মতো খেলোয়াড়দের জন্য এমন একটি নীতিমালা প্রয়োজন, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ, ন্যায়সংগত আচরণ ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে।

অনয়ার ভাষায়, ‘আমি আশা করি, বিসিসিআই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং নারী ক্রীড়ার জন্য এমন একটি নীতি তৈরি করবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত, ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ। আমার স্বপ্ন একদিন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। দেশের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে চাই।’

নিজের ক্রিকেটযাত্রাকে মোটেও সহজ ছিল না উল্লেখ করে অনয়া জানান, পরিবারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় খুব সীমিত সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই পথচলা ছিল অত্যন্ত কঠিন। শুধু বাইরের মানুষ নয়, পরিবারের ভেতর থেকেও অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। কিছুটা সহযোগিতা পেয়েছি, কিন্তু পুরো যাত্রায় সবসময় পূর্ণ সমর্থন ছিল—এমনটা বলতে পারব না।’

জনসমক্ষে নিজের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে স্বচ্ছন্দ হওয়ার আগের সময়ের কথাও তুলে ধরেছেন অনয়া। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে থাকার সময় ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমেই দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছিল তাকে। একপর্যায়ে নিজের চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ চালাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন তিনি। সেখান থেকে কয়েকটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান এবং অস্ত্রোপচারের খরচও জোগাড় করতে সক্ষম হন।

অনয়া বলেন, ‘এমন একটা সময় ছিল, যখন নিজের জীবন চালানো ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য যুক্তরাজ্যের ড্রেসিংরুমেই থাকতে হতো। প্রায় পাঁচ মাস এভাবে কাটিয়েছি। পরে নিজের খরচ ও অস্ত্রোপচারের অর্থ জোগাড় করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার সিদ্ধান্ত নিই। সেখানে কিছু ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাই। ওই সময়ই আমার প্রথম কয়েকটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।’

নিজের পুরো অভিজ্ঞতাকে ‘পাগলাটে’ বলে বর্ণনা করে অনয়া জানান, এই পথচলায় একাকীত্ব যেমন কষ্ট দিয়েছে, তেমনি তাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ়ও করেছে।

তার ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, পুরো যাত্রাটা ছিল অবিশ্বাস্য। এটি ছিল একাকীত্বে ভরা এবং কঠিন। তবে এই একাকীত্বই আমাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছে। আমার মনে হয়, এ কারণেই আজ আমি আরও আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছি।’

এখন বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ অনয়ার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। তার প্রত্যাশা, এই সুযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত পরিবেশ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button