আমাদের নতুন অস্ত্র গোটা বিশ্বকে চমকে দেবে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর হামলা থেকে বিরত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটন নতুন করে কোনো হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সোমবার ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা সামরিক অভিযানে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনা হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে মোহেব্বি বলেন, সম্ভাব্য এসব পরিবর্তনের মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামে পরিবর্তন থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ইরান এবার এমন কিছু অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করবে, যেগুলোর সক্ষমতা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের। এসব অস্ত্রের ব্যবহার বিশ্বকে বিস্মিত করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
মোহেব্বি আরও জানান, ভবিষ্যৎ হামলায় ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। তার ভাষ্য, নতুন করে এমন কিছু লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলোতে এখনো হামলা চালানো হয়নি।
ইরানের এই মুখপাত্র দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং সেই পরাজয় ঐতিহাসিক ও অপমানজনক। তবে ওয়াশিংটন তা স্বীকার করতে চাইছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর উদাহরণ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন মোহেব্বি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। মোহেব্বির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও প্রণালিটি পুনরায় খুলতে পারেনি।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এসব স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যা প্রমাণ করে এগুলো ইরানের নাগালের বাইরে নয়।
মোহেব্বির মতে, পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘাঁটির নিরাপত্তার পেছনে করা বিনিয়োগও ইরানের হামলার মুখে কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।



