‘জাদুকর’ থেকে বিয়ে, ১০ বছর পর প্রীতম-শেহতাজের ভিন্ন পথ

বিনোদন ডেস্ক: একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়ে পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, ভালো লাগা, প্রেম—সবশেষে বিয়ে। প্রায় এক দশকের সেই সম্পর্কের গল্প এবার এসে থামল বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে।
সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আনেন তারা। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ভেবে, পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
প্রীতম হাসান জানান, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় ১০ বছরের পথচলার পর তারা বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। সামনে জীবনের নতুন অধ্যায়ে দুজন আলাদা পথেই এগিয়ে যেতে চান।
শেহতাজও তার বক্তব্যে একই ধরনের কথা জানিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে পারস্পরিক যত্ন ও সম্মানের জায়গাটি এখনো অটুট। তবে সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বোঝাপড়ার পার্থক্যের কারণে আলাদা হয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য ভালো হবে।
‘জাদুকর’ থেকেই সম্পর্কের শুরু
প্রীতম ও শেহতাজের সম্পর্কের সূচনা ২০১৭ সালে। ওই বছর প্রীতমের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেন শেহতাজ।
কাজের সূত্রে পরিচয় ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকে গড়ায়। একপর্যায়ে বন্ধুত্ব পেরিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক।
প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এক সাক্ষাৎকারে প্রীতম জানিয়েছিলেন, শেহতাজকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার পথে না গিয়ে সরাসরি তার মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বসে তাদের বিয়ের আয়োজন। চা-বাগানঘেরা মনোরম পরিবেশে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর আগের দিন অনুষ্ঠিত হয় গায়েহলুদ।
বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তাদের বিয়ের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ।
বিয়ের পরও ছিল ভালোবাসার প্রকাশ
বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে ছবি ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথা শেয়ার করেছেন প্রীতম ও শেহতাজ। তাদের প্রকাশিত নানা পোস্ট দেখে ভক্তদের অনেকেই মনে করতেন, দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই কাটছে।
এক ঈদে স্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা সালামি দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন প্রীতম। শেহতাজ তখন বলেছিলেন, সম্পর্কের শুরু থেকেই ঈদে প্রীতমের কাছ থেকে সালামি পেয়ে আসছেন তিনি। তবে টাকার অঙ্কের চেয়ে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসাটিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছিলেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও স্বামী প্রীতমের প্রশংসা করেছিলেন শেহতাজ। বিয়ের পর প্রীতম তাকে তার বাবা-মায়ের মতোই যত্নে রাখেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি প্রীতমকে নিয়ে নিজের গর্বের কথাও প্রকাশ করেছিলেন শেহতাজ।
এ কারণে হঠাৎ তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা অনেক ভক্তের কাছেই অপ্রত্যাশিত হয়ে এসেছে।
অভিযোগ নয়, সম্মানের সঙ্গেই বিদায়
বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। বরং দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও সৌহার্দ্যের বিষয়টি।
তারা জানিয়েছেন, সম্পর্কের এই অধ্যায় শেষ হলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত বিষয় এবং গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে এবার নিজেদের জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চান প্রীতম ও শেহতাজ।



