শাড়ি পরে খালি পায়ে ১৬০০ মিটার দৌড়! লড়াকু মায়ের জেদে মুগ্ধ নেটিজেনরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে, পায়ে কোনো জুতা ছাড়াই ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন ঝাড়খণ্ডের ২৭ বছর বয়সি কবিতা কুমারী। সময় লেগেছে মাত্র ছয় মিনিট। হোম গার্ডের চাকরি পাওয়ার স্বপ্নে তার এই কঠিন প্রস্তুতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা। প্রায় তিন বছর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর স্বামী দীপক মাহাতোর মৃত্যু হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। পরিবারের খরচ চালাতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে শুধু বর্তমান সামলানো নয়, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকারি চাকরির প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেন।
প্রতিদিন ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠতেন কবিতা। সন্তানরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থাতেই সাধারণ শাড়ি পরে গ্রামের মেঠোপথে দৌড়ের অনুশীলন করতেন। আর্থিক সংকটের কারণে ছিল না ভালো দৌড়ের জুতা, ছিল না ট্র্যাকস্যুটও। কিন্তু এসব কিছুই তার লক্ষ্য থেকে তাকে সরাতে পারেনি।
সম্প্রতি সরকারি নিয়োগের আগে স্থানীয় একটি ট্রেনিং একাডেমি ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। সেখানে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন কবিতা। গায়ে শাড়ি, পায়ে জুতা নেই—গরম পিচের ওপর দিয়েই ছুটতে শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটারের দৌড় শেষ করে সবাইকে চমকে দেন।
কবিতার এমন পারফরম্যান্স দেখে ট্রেইনার ও উপস্থিত দর্শকরাও বিস্মিত হন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তার নিয়মিত অনুশীলন ও দৃঢ় মানসিকতা সবার নজর কেড়েছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডের শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রামগড় জেলায় এবার মোট ২৮৪টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য রয়েছে আরও ৫ শতাংশ বিশেষ সংরক্ষণ।
এই সুযোগকে সামনে রেখে এখন আরও জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কবিতা। দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে তার একমাত্র লক্ষ্য—হোম গার্ডের চাকরিটা অর্জন করা।



